Header Image

নিরহ মানুষের উপর হামলা ও অত্যাচারকারীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন

 

রাকিবুল হাসান ফরহাদ:

ত্রিশাল পৌরসভার নিরীহ মানুষের উপর হামলা ও অত্যাচারকারী, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ শান্ত, রিশাদ, মোরাদ ও তাদের গ্রুপের সকলকে দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করে এলাকাবাসী।

শনিবার (১৮ জানুয়ারী ) দুপুরে বাজারের গো-হাটা মোড়ে সংলগ্ন নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় সড়কে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এসময় সড়কের একপাশে পাশে এলাকাবাসী দীর্ঘ লাইনে দাড়িয়ে বিভিন্ন প্লাকার্ড ও ছবিযুক্ত পোষ্টার হাতে নিয়ে দোষীদের বিচার চেয়েছেন। এসময় বক্তারা দ্রুত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে আইননুসারে ব্যবস্থা নেবার জন্য অনুরোধ করেন এলাকাবাসী।

উল্লেখ্য, বেলা অনুমান ১১.০০ ঘটিকার সময় ত্রিশালে চরপাড়া এলং ওয়ার্ডের গো-হাটা মোড়ে সিএনজি স্ট্যান্ডে ৩নং বিবাদী রিশাদ হোসেন ওরফে নিশাত ও ৫নং বিবাদি সাব্বির হোসেন আমার ছেলে সিএনজি চালক সিদ্দিকুর রহমান ওরফে শিখন (২৫) সিএনজির টাকা নিয়া তর্কবিতর্ক হয়। এর জের ধরিয়া বিবাদী আমার ছেলে সিদ্দিকুর রহমান শিপনকে এলোপাথারীভাবে মারপিট শুরু করে। ৩নং বিবাদী রিশাদ হোসেন ওরফে নিশাত তাহার কোমড় হইতে ধারালো চাকু বাহির করিয়া হত্যার উদ্দেশ্যে আমার ছেলে সিদ্দিকুর রহমান ওরফে শিখনের মাথার সম্মুখভাবে কপালের বাম পার্শ্বে স্বজোরে ঘাই মারিয়া কাটা রক্তাক্ত জখম করে। ৫নং বিবাদী সাব্বির হোসেন আমার ছেলে সিদ্দিকুর রহমান ওরফে শিখনের নাকে-মুখে স্বজোরে ঘুষি মারিয়া নিলা-ফোলা জখম করে এবং গলায় চাপিয়া শ্বাসরোধ করিয়া হত্যার চেষ্টা করে। উক্তরূপ ঘটনা দেখিয়া আমার ভাতিজা তাজামুল ইসলাম (৩০) ও ‘আমার স্বামীর চাচাতো ভাই লাল মিয়া (৬৮) ঘটনাস্থলে যাইয়া আমার ছেলে সিদ্দিকুর রহমান ওরফে শিখনকে জনী অন্যায়ভাবে মারপিট করার কারন জিজ্ঞাসা করিলে, বিবাদীদ্বয় আমার ভাতিজা ও স্বামীর চাচাতো ভাই এর উপর ক্ষিপ্ত হইয়া মারমুখী আচরন শুরু করে এবং তাদেরকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শণ করিয়া চলিয়া যায়। এদিকে আমার ছেলে সিদ্দিকুর রহমান শিখনকে ত্রিশাল হাসপাতাল হইতে চিকিৎসা প্রদান করিয়া থানায় মামলা দায়ের করার এই প্রস্তুতি গ্রহন করাকালে, সকল বিবাদীগন ধারালো ছুরি, লোহার রড, কাঠের ফালা ইত্যাদি দেশীয় তৈরী মারাত্মক অস্ত্র- সন্ত্রে সজ্জিত হইয়া পূর্ব পরিকল্পিতভাবে গত ১৫ জানুয়ারী দুপুর ১২.১০ ঘটিকায় ত্রিশাল থানাধীন ত্রিশাল চরপাড়া ৩নং ওয়ার্ড সাকিনস্থ কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় রোডে বিদ্যমান আমার ভাতিজা তাজামুল ইসলাম এর রামিম কেবিনেট ফার্নিচার দোকানে বেআইনী প্রবেশ করিয়া আমার ভাতিজা তাজামুল ইসলাম ও আমার স্বামীর চাচাতো ভাই লাল মিয়াকে দোকান হইতে টানা হেছড়া করিয়া রাস্তায় বাহির করিয়া এলোপাথারী ভাবে মারপিট শুরু করে। ১নং বিবাদী শান্ত মিয়া কাঠের ফালা দিয়া হত্যার উদ্দেশ্যে আমার স্বামীর চাচাতো ভাই লাল মিয়ার মাথায় স্বজোরে বারি মারিয়া মাথা ফাঁটা গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। আমার স্বামীর চাচাতো ভাই মাটিতে পরিয়া গেলে ১নং বিবাদী শান্ত মিয়া কাঠের ফালা দিয়া লাল মিয়ার শরীরের বিভিন্ন স্থানে পিটাইয়া নিলা- ফোলা ও বেদনাদায়ক জখম করে। ২নং বিবাদী মুরাদ তার হাতে থাকা কাঠের ফালা দিয়া আমার ভাতিজা তাজামুল ইসলাম এর কপালের বাম পার্শ্বে স্বজোরে আঘাত করিয়া রক্তজমাট ও নিলা-ফোলা জখম করে। ৪নং বিবাদী সানজিদ তার হাতে থাকা লোহার রড দিয়া আমার ভাতিজা তাজামুল ইসলাম এর ডান পায়ে হাঁটুতে ও বাম হাতের কবজির উপরে স্বজোরে বারি মারিয়া চামড়া ছোলা জখম করে। উক্তরূপ ঘটনা দেখিয়া আমার স্বামীর চাচাতো ভাই আঃ লতিফ (৫৫) ও ভাতিজা নবী হোসেন (৩০) দ্বয় ফিরাইতে গেলে ৩নং বিবাদী রিশাত হোসেন ওরফে নিশাত তার হাতে থাকা ২১.লোহার রড দিয়া হত্যার উদ্দেশ্যে আমার স্বামীর চাচাতো ভাই আঃ লতিফ এর মাথা লক্ষ্য করিয়া স্বজোরে বারি দেয়। আমার স্বামীর চাচাতো ভাই আঃ লতিফ সামান্য সরিয়া গেলে লোহার রডের বারিটি তাহার মুখে লাগিয়া উপরের দাঁত ভাঙ্গিয়া মাটিতে পরে যায় এবং মুখে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়। পরক্ষনেই ১নং বিবাদী শান্ত তার হাতে থাকা ধারালো ছুরি দিয়া হত্যার উদ্দেশ্যে আঃ লতিফ এর মাথায় স্বজোরে আঘাত করিয়া গুরুতর কাটা রক্তাক্ত জখম করে। ২নং মুরান মিয়া তার হাতে থাকা কাঠের ফালা দিয়া হত্যার উদ্দেশ্যে আমার ভাতিজা নবী হোসেন এর মাথায় স্বজোরে বারি মারিয়া মাথা ফাঁটা গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। ৫নং বিবাদী সাব্বির ও ৬নং বিবাদী লিমন তাদের হাতে থাকা লোহার রড দিয়া আমার ভাতিজা নবী হোসেন এর শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপারীভাবে পিটাইয়া নিলা-ফোলা ও বেদনাদায়ক জখম করে। ১নং বিবাদী শান্ত ও ৩নং বিবাদী রিশাত হোসেন ওরফে নিশাত আমার স্বামীর চাচাতো ভাই আঃ লতিফ এর শার্টের পকেটে থাকা ৪৫,৩৫০/-টাকা সহ ১টি আইটেল বাটন মোবাইল ফোন, যাহার মূল্য অনুমান ৪,০০০/-টাকা হইবে নিয়া যায়। জখমীদের আর্তচিৎকার শুনিয়া ঘটনা দেখিয়া আশপাশের লোকজন আগাইয়া যাইয়া ফিরাইলে বিবাদীগন তাদের হাতে থাকা অস্ত্র-সন্ত্র উচাইয়া আমার স্বামীর চাচাতো ভাই ও ভাতিজাদের পরবর্তীতে সময় সুযোগমত পাইলে খুন করিয়া লাশ গুম করিবে মর্মে প্রকাশ্যে হুমকি দিয়া চলিয়া যায়। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন আমার স্বামীর চাচাতো ভাই লাল মিয়া ও আঃ লতিফন্বয় সং ভাতিজা নবী হোসেন ও তাজামুল হোসেনকে ত্রিশাল হাসপাতালে নিয়া গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার আমার স্বামীর চাচাতো ভাই লাল মিয়া, ভাতিজা তাজামুল ইসলাম ও নবী হোসেনকে উক্ত হাসপাতালে চিকিৎসা প্রদান করেন। কিন্তু আমার স্বামীর চাচাতো ভাই আঃ লতিফ এর অবস্থা আশংকাজনক দেখিয়া কর্তব্যরত ডাক্তার তাৎক্ষনিকভাবে তাহাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করিয়া দেয়। রেফার্ড মূলে আঃ লতিফকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়া চিকিৎসা প্রদান করা হইয়াছে। উক্তরূপ ঘটনার পর বিবাদীগন অস্ত্র-সন্ত্র নিয়া আমাদের বাড়িতে আক্রমন করার জন্য প্রস্তুতি গ্রহন করিয়াছে। বিবাদীগন যেকোন সময় আমাদের বসত বাড়িতে পুনরায় আক্রমন করিয়া আমাদেরকে মারপিট ও খুন জখম করিবে মর্মে প্রকাশ্যে হুমকি দিতেছে।

মোছাঃ শামছুন নাহার শিরিন বাদী হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখ করে ত্রিশাল থাকায় মামলা দায়ের করেন বলে যানা গেছে।

এ বিষয়ে ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মনসুর আহমেদ জানান আসামি গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!