
মোঃ মাসুম বিল্লাহ,দুর্গাপুর(নেত্রকোনা)প্রতিনিধি:
নেত্রকোনার দুর্গাপুর সদর ইউনিয়নে ভিজিএফ এর ১৬ বস্তা চাল পাচারের সময় দুইটি অটো জব্দ করেছে স্থানীয় লোকজন।
দুর্গাপুর উপজেলার ২নং দুর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় থেকে এসব চাল পাচার করা হচ্ছিল।
শনিবার ভোর ৫ টার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে। পরে স্থানীয়দের খবরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হোন উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি এই ১৬ বস্তুা চাল জব্দ করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে গরিব ও দুস্থদের মাঝে বিতরণের লক্ষে দুর্গাপুর উপজেলার ২নং দুর্গাপুর সদর ইউনিয়নের জন্য ৩৫ মেট্রিক টন ২২০ কেজি চাল বরাদ্দ করা হয়। গত সোমবার (২৪ মার্চ) ৩ হাজার ৫২২ জন দুস্থ ও গরিব মানুষের মাঝে বিতরণ কার্যক্রম করা হয়।
এদিকে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে ইউপি সচিব মুখছেদুল হক এবং এই পরিষদের চৌকিদারদের বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থানীয় লোকজন। তারা বলছেন, অনেকে কার্ড নিয়ে এসে ঘুরে গেলেও তাদের চাল দেওয়া হয়নি।
এ নিয়ে জানতে চাইলে দুর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সচিব মুকছেদুল হক মীর বলেন, চালগুলো জব্দ হয়েছে শুনেছি কিন্তু চাল গুলো গ্রাম পুলিশের পারিশ্রমিকের চাল।
কিন্তু স্থানীয়রা বলছেন যদি এই গুলো গ্রাম পুলিশের পরিশ্রমের চাউল হয়ে থাকে তাহলে এইগুলো ভোর রাত্রে পালিয়ে কেনো নিতে হবে?
চাল আটক করা স্থানীয় বাসিন্দা জামাল উদ্দিন বলেন, ফরজরের নামাজ পড়ে পরিষদের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলাম, হঠাৎ দেখি পরিষদ থেকে দুইটি অটো করে চাল নিয়ে বের হচ্ছে তখন আমাদের সন্দেহ হয় অন্ধকারে নিবে কেন? তখন আমরা সামনে গিয়ে অবস্থান নিলে তারা অন্য রাস্তায় চলে যায় তখন আমরা স্থানীয় লোকজনদের জানাই এবং অটো ওয়ালাদের কাছে জিজ্ঞেস করেছি এগুলো কার চাউল? তখন অটো ওয়ালারা বলেন এগুলো সচিব সাহেবের চাউল উনার নির্দেশে সাদির, জুয়েল এবং আবু তাহের চৌকিদার আমাদের নিয়ে আসে এই বস্তা গুলো নিয়ে যাওয়ার জন্য তাই আমরা নিতাছি।
স্থানীয় বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম বলেন, যেদিন চাল বিতরণ করা হয়েছে ওইদিন স্লিপ নিয়ে আসলেও অনেকরে চাল দেওয়া হয়নি পরে তারা চাল ছাড়াই ফিরে গেছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, স্থানীয় জনতা ১৬ বস্তা চাল জব্দ করেছে। চালগুলো আমাদের হেফাজতে রয়েছে এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
