Header Image

গাজীপুরে সাংবাদিক আনোয়ারের উপর নৃশংস হামলার পর তুহিনকে জবাই করে হত্যা

স্টাফ রিপোর্টার

গাজীপুরে বিএনপি সংশ্লিষ্ট এক চাঁদাবাজ চক্রের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিক আনোয়ার হোসেনের ওপর বর্বর হামলার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার বিকেলে গাজীপুর মহানগরীর চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় দৈনিক প্রলয়ের নিজস্ব প্রতিবেদক সাংবাদিক আনোয়ারকে হামলা করে চাদাবাজ চক্র। এসময় ইট দিয়ে আঘাত শরীরে বিভিন্ন জায়গা থেতলে দেয়া হয়।
সাংবাদিক আনোয়ার হোসেনের ওপর হামলার পরের দিন বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের গাজীপুর প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান তুহিনকে মহানগরীর চান্দনা চৌরাস্তায় প্রকাশ্যে জবাই করে হত্যা করা হয়। ‘চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায়’ গাজীপুর মহানগরীতে ‘মব সৃষ্টি করে’ ইট-পাথর দিয়ে আঘাত করে সাংবাদিক আনোয়ার হোসেনের শরীরের বিভিন্ন অংশ থেঁতলে দেওয়া হয়েছে।

আনোয়ার হোসেন সৌরভ (৩২) নামের ওই সংবাদকর্মী নগরীর উত্তর ছায়াবিথী এলাকায় বসবাস করেন। তিনি দৈনিক প্রলয় পত্রিকায় নিজস্ব প্রতিবেদক ও দৈনিক বাংলােেশর আলো নামে একটি পত্রিকায় কাজ করেন। তাকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ শহী তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। প্রকাশ্যে রাস্তার উপর সাংবাদিককে মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এরই মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। অনেকে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। এক মিনিট ৩১ সেকেন্ডের এক ভিডিওতে দেখা যায়, কিছু লোকজন জড়ো হয়ে সৌরভকে মাটিতে ফেলে মারধর করছেন।

এ সময় পাশে একটি পুলিশের গাড়ি দেখা যায়। পুলিশের একজন সদস্য মারধরকারী যুবকদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু পুলিশের বাধা অতিক্রম করেই ওই যুবককে মারধর করা হয়। তাকে চ্যাঙদোলা করে নিয়ে যাওয়া হয়। এর মধ্যে ফিরোজা রংয়ের ফুল হাতা শার্ট ও সাদা প্যান্ট পরা এক যুবক, দুই হাতে লাঠি নিয়ে তাকে বেদম মারধর করছিলেন। ভুক্তভোগীকে তখন ‘ও ভাই, ও ভাই, ও স্যার, ও স্যার’ বলে আকুতি-মিনতি করতে দেখা যায়। তারপর ওই যুবক পাশ থেকে একটি পাথর নিয়ে মাটিতে পড়ে থাকা সাংবাদিককে আঘাত করেন। তখন এক পুলিশ সদস্য তাকে বাধা দেন। ভিডিওতে সাদা শার্ট পরা এক যুবককে উপর েেক লাফ দিয়ে ওই যুবকের শরীরে আঘাত করতেও দেখা যায়।

এ সময় কয়েকজন সাংবাদিকের হাত-পা মাটিতে চাপা দিয়ে ধরে রাখেন। সাংবাদিক সৌরভের এক সহকর্মী বলেন, “শহরের রেলগেইট ও সাহাপাড়া এলাকায় ফুটপাত কে অবৈধভাবে চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে কিছু লোক আনোয়ার হোসেন সৌরভকে বেধড়ক মারধর করে। তারা ইট দিয়ে তার পাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ থেঁতলে দেয়। হামলার সময় পাশেই পুলিশ অবস্থান করলেও প্রমে তাকে উদ্ধারে এগিয়ে আসেনি।”
এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার বিকালে নগরীর সাহাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে সদর মেট্রো থানার ওসি মেহেদী হাসান জানান। তিনি আরও বলেন, পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। তার অবস্থা গুরুতর। সদর মেট্রো থানার ওসি মেহেদী হাসান বলেন, “এ ঘটনায় আহত যুবকের মা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। এরই মধ্যে এজহারনামীয় এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ঘটনার প্রেক্ষিতে এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া একটি স্ট্যাটাসে দাবি করেন, তুহিন হত্যার আগে দুপুরে একই পত্রিকার আরেক সাংবাদিক আনোয়ারকে ইট দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করে বিএনপির কর্মীরা, কারণ তিনিও এক বিএনপি নেতার চাঁদাবাজির খবর সংগ্রহে ছিলেন।

সারজিস আলম লিখেছেন,
“গাজীপুরে এক বিএনপি নেতার চাঁদাবাজি নিয়ে নিউজ করায় আনোয়ার নামের এক সাংবাদিককে ইট দিয়ে থেতলে দেয় বিএনপির কর্মীরা। দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের সাংবাদিক তুহিনকে গাজীপুরের চৌরাস্তায় চায়ের দোকানে রাতে জবাই করে হত্যা করেছে চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীরা! আনোয়ার এবং তুহিন বন্ধু ছিলেন।”
এর আগে জানাযায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে তুহিন গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় ফুটপাত ও দোকানপাট থেকে চাঁদাবাজির বিষয়ে একটি ফেসবুক লাইভ করেন। পরবর্তীতে রাত ৮টার দিকে চায়ের দোকানে বসে থাকার সময় সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যায়।
গাজীপুরের সাংবাদিক মহল, পেশাজীবী সমাজ ও সাধারণ মানুষের মাঝে গভীর ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। গাজীপুর প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে বিচার দাবি ও প্রতিবা কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনার রাজনৈতিক যোগসূত্র ও পরিকল্পিত হত্যার বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানাচ্ছে দেশের সংবাদমাধ্যম সংশ্লিষ্ট মহল। সাংবাদিকরা মনে করছেন, সাংবাদিকদের নির্ভীক পেশাদারিত্বে বাধা দিতেই এ হামলা ও হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!