মাহবুব আলম সরকার:
ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে নজরুল ইসলাম নামের এক কর্মী নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার সন্ধ্যা-৬টার দিকে ধোবাউড়া উপজেলার ঘোষগাঁও ইউনিয়নের এরশাদ বাজারে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
রাজনীতিতে ধৈর্য্য,সহনশীলতা, সহমর্মিতা এবং পারস্পরিক সম্মানবোধ থাকা খুব জরুরি ।
সকল রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী,সমর্থক সবার জন্যই আমরা একজন আরেকজনের প্রতি ঘৃণা,বিদ্বেষ ছড়াতে পারবো,ধিক্কার জানাতে পারবো কিন্তু পৃথিবীর সমস্ত কিছু দিয়েও কি নজরুল এর সন্তান এর জন্য তার বাবাকে ফিরিয়ে দিতে পারবো?
পৃথিবীর সমস্ত কিছু দিয়ে, নজরুল এর স্ত্রীর কাছে তার স্বামীকে ফিরিয়ে দিতে পারবো সম্ভব না।
ধোবাউড়া উপজেলারসব রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং জনগণকে এই সহিংস রাজনীতি পরিহার করার অনুরোধ জানিয়ে,এই হত্যাকান্ডের সাথে যারা জড়িত তাদেরকে আইনের আওতায় এনে,ধোবাউড়ায় শান্তি ফিরিয়ে আনার অনুরোধ জানিয়েছেন-০১নং দক্ষিণ মাইজপাড়া ইউনিয়নের সুশীল সমাজের সর্বশ্রেণী পেশাজীবী সাধারণ অসহায় নিরীহ জনগণ।
নিহত নজরুল ইসলাম ধোবাউড়ার রামসিংহপুর এলাকার হাজী মফিজ উদ্দিনের ছেলে।
তিনি ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমর রুবেলের সমর্থক ছিলেন বলে জানা গেছে।
এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে আদম আলী ও দুলাল নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ (প্রিন্স) দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন এবং মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য সালমান ওমর (রুবেল)
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,শুক্রবার সন্ধ্যায় এরশাদ বাজারে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপি নেতা সালমান ওমর রুবেলের একটি নির্বাচনী অফিস উদ্বোধনের প্রস্তুতি চলছিল।
এসময় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সের সমর্থক রুমানসহ একদল কর্মী সেখানে উপস্থিত হয়।
অফিস উদ্বোধন নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে রুমান দেশীয় অস্ত্র (চাকু) দিয়ে নজরুল ইসলামের ওপর হামলা চালান।
বুকের বাঁ পাশে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে নজরুল মাটিতে লুটিয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ধোবাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান,সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমর রুবেল বলেন, আজকের এই ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়।
আমার বিজয় সুনিশ্চিত দেখে প্রতিপক্ষ গ্রুপের পরিকল্পিত সন্ত্রাস নজরুল ইসলাম আমার একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী ছিলেন।
আমার নির্বাচনী কাজে অংশ নেওয়ায় তাকে প্রকাশ্যে জনসম্মুখে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়েছে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন,আমি প্রাথমিকভাবে যত দূর জেনেছি পারিবারিক কারণে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে।
এখন এখানে রাজনৈতিক রং দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে,প্রার্থীর অফিস উদ্বোধনের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নাই।
হত্যার উদ্দেশ্যে কেউ কাউকে এভাবে আঘাত করবে,এটা কখনো সমর্থনযোগ্য না।
এখানে আমাদের দলের কেউ হয়ে থাকলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোঃআশরাফুল করিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে ধোবাউড়া থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
হত্যাকাণ্ডের পরপরই এলাকায় অভিযান চালিয়ে হামলার নেতৃত্ব দেওয়া আদম আলী ও দুলালকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোঃ আবদুল্লাহ আল মামুন ও সহকারী পুলিশ সুপার হালুয়াঘাট ধোবাউড়ার থানা বলেন,স্বতন্ত্র প্রার্থীর কার্যালয় উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে বিএনপির প্রার্থীর লোকজন হামলা চালিয়ে একজনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে।
ঘটনার পরপর দুজনকে আটক করে আমাদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।