
মোঃ জাফর আহমেদ, কুড়িগ্রাম জেলা সংবাদদাতা
নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি—৫ বছরে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন—এখন আর শুধু রাজনৈতিক অঙ্গীকার নয়, ধীরে ধীরে তা রূপ নিচ্ছে বাস্তব কর্মযজ্ঞে। মাত্র ১৮০ দিনের মধ্যে ১ হাজার কিলোমিটার খাল খননের উদ্যোগ প্রমাণ করছে, সঠিক পরিকল্পনা ও সদিচ্ছা থাকলে অসম্ভবও সম্ভব।
এই কর্মসূচি কেবল মাটি কাটার প্রকল্প নয়; এটি দেশের পরিবেশ রক্ষা, কৃষি পুনরুজ্জীবন এবং বন্যা মোকাবিলার দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের অংশ। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের নদীভাঙন কবলিত কুড়িগ্রাম জেলার মানুষের কাছে এ উদ্যোগ যেন নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখাচ্ছে।
প্রতিবছর বন্যা আসে, আর সঙ্গে করে নিয়ে যায় অসংখ্য মানুষের স্বপ্ন। কৃষকের সোনালি ফসল মুহূর্তে তলিয়ে যায় পানির নিচে। নদীভাঙনে হারিয়ে যায় বসতভিটা, পরিবার হয়ে পড়ে নিঃস্ব। দারিদ্রসীমার নিচে বসবাসকারী হাজারো মানুষ বছরের পর বছর এই দুর্ভোগ বয়ে বেড়াচ্ছে। তাদের কান্না অনেক সময়ই জাতীয় পরিসংখ্যানে হারিয়ে যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাল হারিয়ে যাওয়াই আজকের জলাবদ্ধতা ও দীর্ঘস্থায়ী বন্যার অন্যতম কারণ।
একসময় প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশনের পথ হিসেবে কাজ করা খালগুলো আজ দখল, ভরাট ও অব্যবস্থাপনায় প্রায় বিলীন। ফলে অল্প বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা, আর বর্ষায় দেখা দেয় ভয়াবহ রূপ।
খাল পুনরুদ্ধার মানে শুধু পানি চলাচলের পথ ফিরিয়ে আনা নয়—এটি কৃষি রক্ষা, জীবিকা সুরক্ষা এবং পরিবেশের ভারসাম্য পুনঃস্থাপনের লড়াই। পানি তার স্বাভাবিক গতিপথ ফিরে পেলে কমবে বন্যার তীব্রতা, রক্ষা পাবে ফসলি জমি, স্থিতিশীল হবে গ্রামীণ অর্থনীতি।
কুড়িগ্রামের মানুষ আজ প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে আছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের দিকে। তারা চায়—নদীভাঙন ও বন্যাপ্রবণ অঞ্চলগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে সুপরিকল্পিত ও স্থায়ী সমাধান নেওয়া হোক। উন্নয়নের স্রোত যেন রাজধানী কিংবা বড় শহরেই সীমাবদ্ধ না থাকে; পৌঁছে যাক প্রত্যন্ত চরাঞ্চল ও ভাঙনকবলিত জনপদেও।
“খাল বাঁচলে দেশ বাঁচবে”—এটি এখন কেবল একটি স্লোগান নয়, এটি সময়ের দাবি।
যদি প্রতিশ্রুতি পূর্ণ বাস্তবতায় রূপ নেয়, তবে কুড়িগ্রামের কান্না একদিন পরিণত হবে স্বস্তির হাসিতে।
দেশজুড়ে খাল পুনরুদ্ধারের এই উদ্যোগ যেন ধারাবাহিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলকভাবে বাস্তবায়িত হয়—এমনটাই প্রত্যাশা সচেতন মহলের। কারণ একটি খাল পুনরুদ্ধার মানে শুধু পানি প্রবাহ নয়, বরং হাজারো পরিবারের ভবিষ্যৎ রক্ষা।
এবার সময় এসেছে প্রতিশ্রুতি থেকে পূর্ণ বাস্তবায়নের—মানুষ অপেক্ষায় আছে।
