
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
শীতের সকালের কুয়াশা কাটতেই কুড়িগ্রাম শহরের এক কোণে কয়েকজন নারী কর্মীকে দেখা গেল রাজনীতি, সংগঠন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনায় ব্যস্ত। জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন ঘিরে দেশজুড়ে যখন রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা হিসাব-নিকাশ চলছে, তখন কুড়িগ্রামেও আলোচনায় উঠে এসেছে জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক মিলি কায়কোবাদ–এর নাম।
তবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু শুধু সম্ভাব্য প্রার্থিতা নয়; বরং একজন নারী সংগঠকের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, সংগ্রাম এবং তৃণমূল পর্যায়ে তার সম্পৃক্ততার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।
তৃণমূলের সঙ্গে সংযোগ
দলীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে তিনি জেলা পর্যায়ে নারী কর্মীদের সংগঠিত করার কাজ করে আসছেন। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সভা-সমাবেশ, মতবিনিময় এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমের মাধ্যমে একটি সক্রিয় নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন বলে তাদের দাবি।
এক নারী কর্মী বলেন, “রাজনীতি আমাদের জন্য সহজ ছিল না। কিন্তু মিলি আপা নিয়মিত খোঁজ নিতেন, উৎসাহ দিতেন—এটাই আমাদের বড় শক্তি।”
নির্বাচনী সময়ের ভূমিকা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী আলহাজ্ব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ-এর প্রচারণায় তার সক্রিয় ভূমিকার কথাও স্থানীয় নেতাকর্মীরা উল্লেখ করেন। তাদের মতে, ওই সময়ে নারী কর্মীদের মাঠপর্যায়ে সক্রিয় রাখতে তিনি বিভিন্ন এলাকায় সমন্বয় করেন, যা ভোটারদের মধ্যে সাড়া ফেলেছিল।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী প্রচারণায় সক্রিয়তা থাকলেও সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন সম্পূর্ণভাবে দলীয় কৌশল ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল।
রাজনীতির মানবিক দিক
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার ভাষ্য, রাজনৈতিক কর্মসূচির বাইরে সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডেও তাকে সক্রিয় দেখা যায়। অসুস্থ কর্মীর খোঁজ নেওয়া কিংবা দুর্যোগের সময় সহায়তা নিয়ে পাশে দাঁড়ানো—এ ধরনের উদ্যোগ তৃণমূল পর্যায়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে বলে তারা মনে করেন।
তবে ভিন্নমতও রয়েছে। একজন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক বলেন, “সংরক্ষিত আসনের জন্য শুধু জনপ্রিয়তা যথেষ্ট নয়। দলীয় ঐক্য, গ্রহণযোগ্যতা এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আস্থাও গুরুত্বপূর্ণ। সব দিক বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।”
নারীর রাজনৈতিক পথচলার বাস্তবতা
কুড়িগ্রামের মতো জেলায় নারীদের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা এখনো চ্যালেঞ্জপূর্ণ। পারিবারিক দায়িত্ব, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং আর্থিক সীমাবদ্ধতা অনেক সময় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তবুও স্থানীয় পর্যায়ে নারীদের অংশগ্রহণ ধীরে ধীরে বাড়ছে, যা ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, সংরক্ষিত নারী আসনের মূল উদ্দেশ্য সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা। তবে সেই প্রতিনিধিত্ব কতটা তৃণমূলের বাস্তব চাহিদা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে পারবে—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
সিদ্ধান্তের অপেক্ষা
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দলের কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা আশাবাদী হলেও অনেকে বাস্তবতা বিবেচনায় অপেক্ষা করছেন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের।
সংরক্ষিত নারী আসন ঘিরে কুড়িগ্রামের এই আলোচনা কেবল একটি সম্ভাব্য মনোনয়ন নয়; বরং জেলা রাজনীতিতে নারী নেতৃত্বের উত্থান, সংগ্রাম এবং প্রত্যাশার এক মানবিক প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।
