দিন দিন সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। দেশের আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থা আরও কঠোর ও কার্যকর হওয়া দরকার। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয়—কেন জানি অনেক সময় টাকার কাছে সত্য, ন্যায় ও আইনও মাথা নত করে বলে মনে হয়।
ইদানীং আমার সহোদর বড় ভাইও চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
প্রায় ১০ বছর আগে তিনি বৈধভাবে জমি ক্রয় করে সাফ-কাওলা দলিল, খারিজসহ প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র সম্পন্ন করে সেখানে বসতবাড়ি নির্মাণ করে পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসছেন। যে ব্যক্তির কাছ থেকে তিনি জমি কিনেছেন, তিনি প্রায় ১–২ বছর আগে মারা গেছেন।
কিন্তু বর্তমানে ওই ব্যক্তির স্ত্রী কিছু লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে আমার ভাইয়ের বসতবাড়ি ও গাছপালা কেটে জায়গা ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এর আগে প্রায় ৭–৮ মাস আগে ওই নারী আমার ভাইয়ের বিরুদ্ধে ত্রিশাল ইউএনও অফিসে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। ইউএনও মহোদয় আমার ভাইয়ের সব কাগজপত্র দেখে বিষয়টি পর্যালোচনা করে তাদের হয়রানি না করার জন্য সতর্ক করেন এবং তিনি যেখানে বসবাস করছেন, সেখানেই থাকার কথা বলেন।
সেই বৈঠকে সাংবাদিক এটিএম মনিরুজ্জামান মনির ভাইসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
কিন্তু দুঃখের বিষয়, গত ১০–১৫ দিন আগে মনির ভাইসহ আরও কয়েকজন এসে জমি মেপে আমার ভাইয়ের সীমানার ভেতরে খুঁটি-বেড়া স্থাপন করে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।
আমার ভাই একজন সামাজিক মানুষ। এলাকার কারও সঙ্গে বিরোধ বা মনোমালিন্য হোক—তিনি তা চান না। সংঘাত এড়ানোর জন্যই আদালতে শুধু সংশ্লিষ্ট নারীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। আদালতে তিনি উপযুক্ত জবাব দিতে না পারায় আমার ভাইয়ের বসতবাড়িতে অবৈধ হস্তক্ষেপ ঠেকাতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।
কিন্তু ১৪৪ ধারা জারি থাকা অবস্থাতেও কয়েকজন তার জমিতে খুঁটি স্থাপন করেছেন। ঘটনার ভিডিও ফুটেজও আমার ভাইয়ের কাছে রয়েছে। তারপরও সামাজিক সম্পর্ক ও সংঘাত এড়ানোর কথা বিবেচনা করে তিনি তাদের বিরুদ্ধে মামলা বা অভিযোগ করেননি।
মনির ভাইকেও শুধু আগের ইউএনও অফিসের সিদ্ধান্তের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, “দুজনকে আমরা মিলিয়ে দিতে এসেছি।” এরপর আর তার দেখা পাওয়া যায়নি।
এখন আমার ভাইকে এলাকার কিছু মানুষ বাসাবাড়ি ভেঙে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এমনকি মামলা দ্রুত শেষ করে দেওয়ার মতো কথাও বলা হচ্ছে।
প্রশ্ন হচ্ছে—আইনের বিষয় কি এখন চায়ের দোকানের কয়েক কাপ চা, সিগারেট আর প্রভাব-প্রতিপত্তির ওপর নির্ভর করবে?
টাকার কাছে কি সত্যিই সবকিছু সম্ভব?
আমরা সংঘাত চাই না। এলাকার প্রত্যেক মানুষকেই আমরা আপনজন মনে করি। কারও সঙ্গে বিরোধে জড়ানো আমাদের উদ্দেশ্য নয়। আমরা শুধু চাই—আমার সহোদর বড় ভাইয়ের বৈধ কাগজপত্র, বসতবাড়ি, সম্পত্তি ও নিরাপত্তার বিষয়টি আইন অনুযায়ী নিশ্চিত করা হোক।
দুনিয়ার বুকে সাধারণ মানুষের শেষ আশ্রয় আদালত ও আইন। সেই শেষ আশ্রয়স্থল যেন কোনোভাবেই অর্থ, প্রভাব কিংবা স্বার্থের কাছে কলঙ্কিত না হয়।
আইন তার নিজের গতিতে চলুক। সত্যের জয় হোক। অন্যায় ও জবরদখলের বিরুদ্ধে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কার্যকর ভূমিকা রাখুক।
আমরা সংঘাত চাই না—আমরা ন্যায়বিচার চাই।
আল্লাহ আমার সহোদর বড় ভাইসহ এলাকার সবাইকে হেফাজত করুন এবং সব ধরনের সংঘাত থেকে দূরে রাখুন।