বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় প্রায় ৫০ বছর ধরে বসবাস করে আসা একটি মুসলিম পরিবারের পৈতৃক বসতভিটা নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। বসতভিটাটি কালীমন্দিরের জমি দাবি করে একটি পক্ষ দখলের চেষ্টা ও পরিবারটিকে উচ্ছেদের হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে পরিবারটি।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ৪ নম্বর গৈলা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য শিহিপাশা গ্রামে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় দুলাল নামের এক ব্যক্তির নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি দীর্ঘদিনের বসতভিটা ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য তাদের চাপ ও হুমকি দিচ্ছেন। পরিবারের দাবি, জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে বসতভিটায় মন্দিরের জমির পরিচয় প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগী নীলুফা বেগমের ছেলে ও পরিবারের সদস্যদের দাবি, সংশ্লিষ্ট জমিতে তাদের পরিবার প্রায় পাঁচ দশক ধরে বসবাস করে আসছে। দীর্ঘদিনের বসবাস, জমির রেকর্ড এবং অন্যান্য কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও সম্প্রতি জমিটি নিয়ে নতুন করে বিরোধ তৈরি করা হয়েছে। এর ফলে যেকোনো সময় বসতভিটা হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটছে পরিবারটির।
পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিরোধপূর্ণ জমির এসএ খতিয়ান নম্বর ৩০৯ এবং দাগ নম্বর ৭৬। পরবর্তী বিএস রেকর্ডে জমিটি জেল নম্বর ৪৪, খতিয়ান নম্বর ২৭৫ এবং দাগ নম্বর ৬৯৪-এর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। একই পরিমাণ জমি নীলুফা বেগম (স্বামী: আমজেদ মোল্লা)-এর নামেও রেকর্ডভুক্ত রয়েছে বলে দাবি করেছেন পরিবারের সদস্যরা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহল জমিটিকে কালীমন্দিরের জমি হিসেবে দাবি করে তাদের বসতভিটা থেকে উচ্ছেদের নানা অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এ নিয়ে পরিবারটির মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে নারী ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
পরিবারটির দাবি, বিষয়টি কোনো ধর্মীয় বিরোধ হিসেবে নয়, বরং জমির প্রকৃত মালিকানা ও দীর্ঘদিনের বসবাসের অধিকার বিবেচনায় নিয়ে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। জমির সরকারি রেকর্ড, দলিলপত্র, দখল ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করলেই প্রকৃত মালিকানা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব।
এ অবস্থায় ভুক্তভোগী পরিবারটি উপজেলা প্রশাসন, সহকারী কমিশনার (ভূমি), আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। তাদের দাবি, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে জমির প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ, উচ্ছেদের হুমকি বন্ধ এবং পরিবারের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
দীর্ঘদিনের বসতভিটা নিয়ে এমন বিরোধের ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এখন ভুক্তভোগী পরিবারটির একটাই প্রত্যাশা—প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন এবং আইনের আশ্রয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।