গাজীপুর মহানগরীর সদর থানাধীন ভোড়া হাজীবাগ এলাকায় একটি ভাড়া বাসার দরজা ও আলমারির তালা ভেঙে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ টাকার স্বর্ণালঙ্কারসহ মূল্যবান মালামাল চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত মঙ্গলবার ১৩ অক্টোবর সকাল ৮ টা থেকে দুপুর ২ টার মধ্যে কোনো একসময় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন ভুক্তভোগী ভাড়াটিয়া মোঃ সারোয়ার জাহান সোহান।
এ ঘটনায় চারটি ক্রেডিট কার্ড ও তিনটি ডেবিট কার্ডও খোয়া গেছে। চুরির ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন সারোয়ার জাহান সোহান।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সারোয়ার জাহান ভোড়া হাজীবাগের ৭/৫ নম্বর বাসায় বাড়ির মালিক জাকির হোসেনের তৃতীয় তলায় ভাড়া থাকেন। তিনি একটি বাইং হাউজে চাকরি করেন। প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার সকাল ৮ টার দিকে বাসার দরজা-জানালা বন্ধ করে তালা লাগিয়ে কর্মস্থলে যান। দুপুর ২ টার দিকে বাড়ির মালিকের ফোন পেয়ে জানতে পারেন, তার বাসার মূল দরজার তালা ভাঙা এবং দরজা খোলা রয়েছে। পরে দ্রুত বাসায় ফিরে বাড়ির মালিক ও আশপাশের লোকজনের উপস্থিতিতে ভেতরে প্রবেশ করে ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান। অভিযোগ অনুযায়ী, বেডরুমের দরজার তালা ভাঙার পাশাপাশি ওয়ারড্রব ও পার্টেক্সের আলমারির তালা এবং ড্রয়ারও ভাঙা ছিল। ভুক্তভোগীর দাবি, আলমারির ড্রয়ারে রাখা ৩ ভরি ৮ আনা ওজনের বিভিন্ন স্বর্ণালঙ্কার—দুটি চেইন, একটি ঝুমকা, দুটি আংটি ও এক জোড়া কানের দুল চুরি হয়েছে। এসব অলঙ্কারের আনুমানিক মূল্য ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এ ছাড়া ৪ ভরি ওজনের এক জোড়া নূপুর, যার মূল্য ১৬ হাজার টাকা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, সেটিও খোয়া গেছে। পাশাপাশি চারটি ক্রেডিট কার্ড ও তিনটি ডেবিট কার্ড পাওয়া যায়নি।
অভিযোগে চুরি যাওয়া স্বর্ণালঙ্কারের মোট আনুমানিক মূল্য ৭ লাখ ৬৬ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে চুরি হওয়া অন্যান্য সামগ্রীর মূল্য এতে অন্তর্ভুক্ত নয়।
ঘটনার পর বাড়ির বাসিন্দা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি জানিয়ে চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা করেন সারোয়ার জাহান। এতে ব্যর্থ হয়ে তিনি সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।
এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা চোর বা চোরদের শনাক্ত, চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী।
গাজীপুর সদর থানার ওসি আমিনুল ইসলাম জানান, অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।