ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মো. সিরাজুল ইসলাম (৬০) নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে ও লাঠিপেটা করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী কয়েকজনের বিরুদ্ধে।
গত ৮ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ফুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের চৌদার ছাগলছিড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
আহত সিরাজুল ইসলাম ওই এলাকার মৃত হাজী কাশেম আলীর ছেলে। তিনি বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
থানায় দেওয়া অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে অভিযুক্তদের দীর্ঘদিন ধরে জমি-সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। এর আগে তার ভোগদখলীয় জমিতে যাওয়ার সময় বাধা দেওয়ার অভিযোগে তিনি ফুলবাড়ীয়া থানায় মামলানম্বর ১৮/২০২৬ দায়ের করেন। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
সিরাজুল ইসলামের অভিযোগ, গত ৮ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি তার ভোগদখলীয় জমিতে গেলে অভিযুক্তরা দা, লাঠি ও লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা তাকে গালিগালাজ করেন। প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তদের একজন অন্যদের নির্দেশ দিয়ে তাকে মারধর করতে বলেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এরপর কয়েকজন মিলে সিরাজুল ইসলামকে লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করেন। একপর্যায়ে একজন অভিযুক্ত দা দিয়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথার ডান পাশে কোপ দেন। এতে তার মাথায় গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়।
তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ও সাক্ষীরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে তাকে ফুলবাড়ীয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
সিরাজুল ইসলামের আরও অভিযোগ, হামলার পর অভিযুক্তরা বিষয়টি নিয়ে আইনের আশ্রয় নিলে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দেন।
এ ঘটনায় থানায় দেওয়া অভিযোগে মো. এমদাদুল হক, মো. এহসাক আলী, নাছিমা খাতুন, মো. হাবিবুর রহমান ওরফে হবিবর এবং আরও একজনসহ অজ্ঞাতনামা ৫-৬ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সিরাজুল ইসলামের বক্তব্য অনুযায়ী তার ছেলে মো. আশিকুর রহমান থানায় নিয়ে যান বলে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ফুলবাড়ীয়া থানায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন করেছেন ভুক্তভোগী।